Skip to main content

আজ ওর জন্মদিন ওয়াশিকুর রহমান বাবু

 "একসময় সবাই মানুষ ছিল।

তারপর ঈশ্বরের আবির্ভাব হল ;

মানুষ হয়ে গেল

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি, শিখ ....."

-- ওয়াশিকুর রহমান বাবু


মুক্তচিন্তার প্রতীক, শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম কমরেড ওয়াশিকুর রহমানের জন্ম বাংলাদেশের একটি মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে ১লা জুন ১৯৮৮ সালে। সামাজিক ও পারিবারিক ধর্মীয় বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসা বাবুর জন্য খুব সহজ ছিল না। আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে নাম করা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ালেও পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিকূল অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার অবিরাম সংগ্রাম করেছে সে। যে দেশে এই বয়সের বেশিরভাগ তরুণেরা আড্ডা মেরে সময় কাটায়, সেখানে সে বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছিলো ভবিষ্যতের জন্য। এই অল্প বয়সী রুগ্ন ছেলেটি তার লেখনীর মাধ্যমে যেভাবে ধর্মের ভীত ধরে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছিল, তা দেশের শক্তিশালী আর প্রতিষ্ঠিত অনেক লেখক আর বুদ্ধিজীবিরাও পারেননি।


মাত্র সাতাশ বছরের রুগ্নদেহী এই তরুণ সারা বিশ্বের মানুষকে নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছে কিভাবে মেধা, যুক্তি আর সাহস দিয়ে কুসংস্কার, ভন্ডামী, ধর্মান্ধতা আর ধর্ম-ব্যবসার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। 'এথিস্ট বাংলাদেশ' এবং 'বাংলার শার্লি' সহ বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রপের সদস্য ছিল সে।


২০১৫ সালের ৩০শে মার্চ ঢাকার তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুর বাবুকে বাসা থেকে পাঁচশ গজ দূরে অফিসে যাবার পথে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে কিছু ধর্মের ভাইরাস। ফেসবুকে ওয়াশিকুরের সবশেষ প্রোফাইল ছবিটিই ছিল 'আই এ্যাম অভিজিৎ' লেখা একটি পোস্টার। তাতে ইংরেজিতে আরো লেখা আছে 'শব্দের মৃত্যু নেই'।


ছেলেটি বলেছিল - “কেউ আমাকে ধর্মবিদ্বেষী বলে অভিযুক্ত করলে আমি সেটা প্রত্যাখান করি না। কারণ ধর্মবিদ্বেষ অপরাধ নয়। মানববিদ্বেষ অপরাধ। পৃথিবীর সব ধর্মই মানববিদ্বেষে পূর্ণ। মানববিদ্বেষী ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা পবিত্র দায়িত্ব মনে করি।”



আজ ওর জন্মদিন ওয়াশিকুর রহমান বাবু।


ওয়াশিকুর রহমান বাবু

Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশের আইনে কি সবার জন্য সমান অধিকার প্রয়োগের অধিকার প্রধান করে.?

 সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে কিছু দিন আগে। এতে বরখাস্ত ওসি প্রদীপের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। খুব সুন্দর , একজন অপরাধীর পরিচয়  সে একজন অপরাধী।  সে কোন ধর্মের অনুসারী, কোন দলের অনুসারী, তার জনমত কেমন, তা দেখে কি অপরাধীর অপরাধ বিচার করা হয়.?? প্রতিদিন ধর্ম তুলে প্রদীপের উপর যে নোংরা বুলি আওড়ানো হয় সেটা কখনোই আইনের শাসন হতে পারে না.! বাংলাদেশের বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য যে বেআইনি কাজকর্ম করে তার অধিকাংশই কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের অনুসারী এখন তাদের ব্যাপারে কি বলবেন? ওসি প্রদীপ যদি সত্যিই অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে আমরা সবাই তার সঠিক সাজার দাবি জানাই কিন্তু তার আগে আমার কিছু কথা বলার আছে- ১.দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার বিচার কি আমরা পেয়েছি? তার খুনের ঘটনায় জড়িত সবাই এখন রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় জেলের বাইরে। ২।চার বছরের ছোট শিশু পুজার ধর্ষণের মামলা কেন জুলে আছে?       ৩৮বছরের সাইফুল ইসলাম ছোট বাচ্চাটার যৌনাঙ্গ ব্লেট দিয়ে কেটে দিয়েছিল, সেই ঘটনার কোন বিচার হয়নি কেন? ৪।২০১৫ ...

স্বামী-স্ত্রীর বয়স সমাচার

নবী মুহাম্মদ= ৫৩ বছর- আয়শা- ০৬ বছর- ১৩ জন স্ত্রী, +যৌন দাসী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-=১৪ বছর- স্ত্রী ০৮ বছর- ০১ জন স্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর=   ২২ বছর- স্ত্রী ১১ বছর- ০১ জন স্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র=              ১১ বছর- স্ত্রী ০৫ বছর- ০১ জন স্ত্রী রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর-  ১৪ বছর- স্ত্রী ০৬ বছর- ০১ জন স্ত্রী শিবনাথ শাস্ত্রী-        ১৩ বছর- স্ত্রী ১০ বছর-০১ জন স্ত্রী রাজনারায়ণ বসু-    ১৭ বছর- স্ত্রী ১১ বছর- ০১ জন স্ত্রী সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর- ১৭ বছর- স্ত্রী ০৭ বছর- ০১ জন স্ত্রী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর- ১৯ বছর- স্ত্রী ০৮ বছর- ০১ জন স্ত্রী উক্ত তালিকায় দেখুন স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য।  তাছাড়া, নবী মুহাম্মদ নিজেকে আল্লার প্রেরিত সর্ব শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ হিসেবে দাবী করেছেন; অন্যরা তা’ করেননি। মুহাম্মদ নিজেকে অনুকরন করতে বলেছেন; অন্যেরা তা’ বলেননি। নবী মুহাম্মদের সমালোচনা করলে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে, আর নাঙ্গা তরবারী হাতে জিহাদের জন্য বেরিয়ে পড়ে; অন্যদের ক্ষেত্রে মোটেই তা’ হয়না। কোন ব্যক্তিই সমালোচনার উরদ্ধে নয়, তাহলে...

ব্লগার অভিজিৎ ও আবরার হত্যা

আবরার হত্যার দুই বছর অতিক্রম না করতেই তড়িৎ গতিতে আবরার হত্যার রায় দিয়ে দেওয়া হলো।  যেই রায় নিয়ে এখনও আছে অনেক সংশয়.!  সকল আসামি সত্যিই কি অপরাধী.? এমনকি হয়নিত যে তার প্রাপ্য সাজা থেকে অধিকতর বেশি সাজা পেয়েছেন..? প্রভৃতি নানা রকম প্রশ্ন এখনও থেকে যায়..! যদিও আসামিরা সকলেই ছাত্র, সে হিসাবে তাদেরকে সংশোধনের কোন ব্যবস্তা করা যেত কিনা সেটা আমি মনে করি.. ব্লগার, প্রকৌশলী, বুয়েটের সাবেক ছাত্র, লেখক, মুক্তমনা একজন দেশপ্রেমি শহিদ অভিজিৎ কে ২০১৫ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী প্রকাশ্যে প্রশাসন ও জনসম্মুখে দেশদ্রোহী উগ্রপন্থিরা হত্যা করল.! এত বছর পেরিয়ে যাবার পর আমাদ এই দেশ, প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যাক্তি, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধা, মিডিয়া, সাংবাদিক, লেখকসহ সকল সচেতন ব্যক্তি, যারা বলে এই দেশ সবার, আমরা সবাই ভাই ভাই, আইন সবার জন্য সমান, দেশপ্রেমের উর্দে কিছু নেই এই জাতীয় মনগড়া সুরসুরি দেয়, তারা অভিজিৎ হত্যার জন্য কি করেছেন.???? তাহলে আমরা এটা থেকে কি শিখতে আগ্রহী হবো.???? আমি প্রকাশ্যে এই দেশে, এইদেশের জনগণের প্রতি ধিক্কার জানাতে পারব, আমি যে এদের প্রতি ঘৃনা জানাতে পারব.????