Skip to main content

বাংলাদেশের আইনে কি সবার জন্য সমান অধিকার প্রয়োগের অধিকার প্রধান করে.?

 সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে কিছু দিন আগে। এতে বরখাস্ত ওসি প্রদীপের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। খুব সুন্দর ,

ওসি প্রদীপ

একজন অপরাধীর পরিচয়  সে একজন অপরাধী।  সে কোন ধর্মের অনুসারী, কোন দলের অনুসারী, তার জনমত কেমন, তা দেখে কি অপরাধীর অপরাধ বিচার করা হয়.??

প্রতিদিন ধর্ম তুলে প্রদীপের উপর যে নোংরা বুলি আওড়ানো হয় সেটা কখনোই আইনের শাসন হতে পারে না.! বাংলাদেশের বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য যে বেআইনি কাজকর্ম করে তার অধিকাংশই কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের অনুসারী এখন তাদের ব্যাপারে কি বলবেন?


ওসি প্রদীপ যদি সত্যিই অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে আমরা সবাই তার সঠিক সাজার দাবি জানাই কিন্তু তার আগে আমার কিছু কথা বলার আছে-

ব্লগার অভিজিৎ

১.দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার বিচার কি আমরা পেয়েছি?

তার খুনের ঘটনায় জড়িত সবাই এখন রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় জেলের বাইরে।

২।চার বছরের ছোট শিশু পুজার ধর্ষণের মামলা কেন জুলে আছে?

      ৩৮বছরের সাইফুল ইসলাম

ছোট বাচ্চাটার যৌনাঙ্গ ব্লেট দিয়ে কেটে দিয়েছিল,

সেই ঘটনার কোন বিচার হয়নি কেন?

৪।২০১৫ সাল ফেনীর মাথিয়ারা জেলেপাড়ার ১ লাথিতে গর্ভপাত হয়ে যাওয়া তুলসী রানী দাস এর কথা মনে আছে?? 

গর্ভের শিশু হত্যার ঘটনায় যুবলীগের আট কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।  গ্রেফতারকৃতরা হল, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা ও আশপাশের গ্রামের নুর হোসেন, আমির হোসেন, জাকির হোসেন, আলমীর হোসেন বাবুল, রিয়াজ উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও সোহাগ এদের কি বিচার হয়েছিল?

৫। চট্টগ্রামের বৌদ্ধ পল্লীতে হামলার ঘটনায় কয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের কি সাজা দেওয়া হয়েছে?

৬। নোয়াখালীতে একজনকে বৃদ্ধকে নগ্ন করে কালেমা পড়িয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেই ঘটনার এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি কেন?

৮। ভোলায়, নাসিরনগর, সিলেট, রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলার ফয়সালা হয় নাই কেন?

৯। পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে পঁচাত্তর লক্ষ্য হিন্দু জনগোষ্ঠী উধাও বাংলাদেশ থেকে এর কারণ কি?

মনে পড়ে ছবি রানী সরকারের কথা, মনে পড়ে মানিক চন্দ্র ও যতন সাহা দাদার কথা?

১০। গত অক্টোবরে দূর্গা পূজার অষ্টমী দিন থেকে চালানো হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ইতিহাসের জঘন্যতম নির্মম হত্যাকান্ড,সারা দেশে দূর্গা মন্দির আক্রান্ত হয়েছিল,সাত জন সনাতন ধর্মাবলম্বীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল, মতান্তর বিশ জন।

গত মাসে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে বিশেষ সম্প্রদায়ের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য,

এতো বড় একটা নির্মম হত্যাকান্ড ও জঘন্য অপরাধের 

ঘটনার বিচার কেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে?

১১। বাগেরহাট মাইকিং করে দুই দুই বার হিন্দুদের উপর হামলা করা হয়েছে, তার কোনো সঠিক বিচার ব্যবস্থা করা হয় নাই। 

আমি ওসি প্রদীপের ফাঁসি চাই ‌কিন্তু যারা আমার ছোট্ট অবুঝ বোনকে গণধর্ষণ করেছে,যারা আমার শত শত মায়ের বুকের ধন কেরে নিয়েছে,তারা কেন শাস্তি পাবে না?

ওসি প্রদীপের ফাঁসি চান তাহলে সাইফুলের বেলায় প্রশাসন ও সরকার নিরবতা পালন করে কেনো।

মূল বিষয় হলো হিন্দু ধর্মের কেউ কোনো অপরাধ করলে তাকে কঠোর থেকে কঠোর বিচার ব্যবস্থা করা হয়। আর অন্য ধর্মের লোকজন হিন্দুদের উপর হামলা ও অগ্নি সংযোগ লুটপাট খুন ধর্ষণ করলেও তাদের কোনো বিচার ব্যবস্থা করা হয় না এই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে। 

Comments

Popular posts from this blog

স্বামী-স্ত্রীর বয়স সমাচার

নবী মুহাম্মদ= ৫৩ বছর- আয়শা- ০৬ বছর- ১৩ জন স্ত্রী, +যৌন দাসী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-=১৪ বছর- স্ত্রী ০৮ বছর- ০১ জন স্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর=   ২২ বছর- স্ত্রী ১১ বছর- ০১ জন স্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র=              ১১ বছর- স্ত্রী ০৫ বছর- ০১ জন স্ত্রী রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর-  ১৪ বছর- স্ত্রী ০৬ বছর- ০১ জন স্ত্রী শিবনাথ শাস্ত্রী-        ১৩ বছর- স্ত্রী ১০ বছর-০১ জন স্ত্রী রাজনারায়ণ বসু-    ১৭ বছর- স্ত্রী ১১ বছর- ০১ জন স্ত্রী সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর- ১৭ বছর- স্ত্রী ০৭ বছর- ০১ জন স্ত্রী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর- ১৯ বছর- স্ত্রী ০৮ বছর- ০১ জন স্ত্রী উক্ত তালিকায় দেখুন স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য।  তাছাড়া, নবী মুহাম্মদ নিজেকে আল্লার প্রেরিত সর্ব শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ হিসেবে দাবী করেছেন; অন্যরা তা’ করেননি। মুহাম্মদ নিজেকে অনুকরন করতে বলেছেন; অন্যেরা তা’ বলেননি। নবী মুহাম্মদের সমালোচনা করলে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে, আর নাঙ্গা তরবারী হাতে জিহাদের জন্য বেরিয়ে পড়ে; অন্যদের ক্ষেত্রে মোটেই তা’ হয়না। কোন ব্যক্তিই সমালোচনার উরদ্ধে নয়, তাহলে...

ব্লগার অভিজিৎ ও আবরার হত্যা

আবরার হত্যার দুই বছর অতিক্রম না করতেই তড়িৎ গতিতে আবরার হত্যার রায় দিয়ে দেওয়া হলো।  যেই রায় নিয়ে এখনও আছে অনেক সংশয়.!  সকল আসামি সত্যিই কি অপরাধী.? এমনকি হয়নিত যে তার প্রাপ্য সাজা থেকে অধিকতর বেশি সাজা পেয়েছেন..? প্রভৃতি নানা রকম প্রশ্ন এখনও থেকে যায়..! যদিও আসামিরা সকলেই ছাত্র, সে হিসাবে তাদেরকে সংশোধনের কোন ব্যবস্তা করা যেত কিনা সেটা আমি মনে করি.. ব্লগার, প্রকৌশলী, বুয়েটের সাবেক ছাত্র, লেখক, মুক্তমনা একজন দেশপ্রেমি শহিদ অভিজিৎ কে ২০১৫ সালের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী প্রকাশ্যে প্রশাসন ও জনসম্মুখে দেশদ্রোহী উগ্রপন্থিরা হত্যা করল.! এত বছর পেরিয়ে যাবার পর আমাদ এই দেশ, প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যাক্তি, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধা, মিডিয়া, সাংবাদিক, লেখকসহ সকল সচেতন ব্যক্তি, যারা বলে এই দেশ সবার, আমরা সবাই ভাই ভাই, আইন সবার জন্য সমান, দেশপ্রেমের উর্দে কিছু নেই এই জাতীয় মনগড়া সুরসুরি দেয়, তারা অভিজিৎ হত্যার জন্য কি করেছেন.???? তাহলে আমরা এটা থেকে কি শিখতে আগ্রহী হবো.???? আমি প্রকাশ্যে এই দেশে, এইদেশের জনগণের প্রতি ধিক্কার জানাতে পারব, আমি যে এদের প্রতি ঘৃনা জানাতে পারব.????